বিশ্বজয়ের পর এবার পুজোর মন্ডপেও কন্যশ্রী

By Pranayita Mondal – August 01, 2017

বাংলার কন্যাশ্রীর সুখ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বের দরবারে। বহু প্রশংসিত এই প্রকল্প আদায় করে এনেছে সেরার আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

 

বিশ্বে সমাদৃত বাংলার কন্যাশ্রী এবার উঠে এল পুজোর থিমে। হতদরিদ্র এক পরিবারের এক মেয়ের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কাহিনীকে তুলে ধরতে কন্যাশ্রী হাজির করছে বিধাননগরের এ কে ব্লকের দুর্গাপুজো কমিটি।

প্রত্যন্ত গ্রামের এক পরিবার। বাড়ি–‌লাগোয়া একটি চায়ের দোকান। চা বিক্রি করে কোনও রকমে টিকে আছে পরিবারটি। সংসারের একমাত্র ছোট্ট মেয়েটির পড়াশোনার খুব ইচ্ছা।

কিন্তু বাবাকে সাহায্য করতে দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে থাকতে হয় পরিবারের ছোট দোকানটিতে। বাবাকে সাহায্য করে মেয়েটি। খরিদ্দারের কাছে এগিয়ে যায় কেটলি হাতে।

তাঁদের হাতে তুলে দেয় চায়ের কাপ। দোকানের পাশেই আছে এক পাঠশালা। মাঝেমধ্যে অন্যমনস্ক হয়ে যায় ছোট্ট মেয়েটি। তাকিয়ে থাকে পাঠশালার দিকে। সুযোগ পেলেই ছুটে যায় পাঠশালার কাছে। দেখে ছোট ছোট ছেলে–‌মেয়েদের গুরুর কাছে পাঠ নিতে। পাঠশালায় যাওয়ার জন্য বাবার কাছে বায়না ধরে ছোট্ট মেয়েটি।

মোড়লকে বলে একদিন মেয়েটিকে পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার বাবা। দোকানে বাবাকে সাহায্য করার পাশাপাশি শুরু হয় তার পাঠশালায় পাঠগ্রহণ পর্ব। একটু একটু করে বড় হয় মেয়েটি। পাঠশালা ছেড়ে স্কুলে যায় সে। বাড়ে পড়ার চাপ।

বাড়ির সামনে রাস্তায় থাকা গ্যাসের আলোয় বিদ্যাসাগরের পড়াশোনা করার কাহিনী আমরা জানি। কিশোরী মেয়েটিও পড়াশোনা শুরু করে রাস্তার আলোয়। তবে গ্যাসের নয়, সৌর শক্তিতে জ্বলা আলোয়।

বাতিস্তম্ভের ওপর জ্বলজ্বল করছে কন্যাশ্রীর লোগো। হ্যাঁ, সেই লোগো, যা এখন পরিচিত বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে। মেয়েটি বড় হয়। স্বপ্ন দেখে আরও বড় হওয়ার। সম্প্রতি দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ করেছে প্রেসিডেন্সি কলেজ (‌বিশ্ববিদ্যালয়)‌।

সেই কলেজে পড়ার স্বপ্ন দেখে কিশোরীটি। পড়াশোনায় ভাল হওয়ায় সুযোগও এসে যায়। স্বপ্নের কলেজে ভর্তি হয় সে। পাঠপর্ব শেষ করে আসে রোজগারের দিন।

নিজের কলেজেই শিক্ষকতা করার জন্য পরীক্ষার সম্মুখীন হয় সে। নিজ যোগ্যতায় মেলে শিক্ষকতার চাকরি। এই কলেজ তার কাছে মন্দিরের সমান। তাই প্রেসিডেন্সির আদলেই তৈরি হচ্ছে দুর্গামণ্ডপ।

এই পুজোর থিমের ভাবনা শিল্পী বাপাই সেনের। কন্যাশ্রী এই মণ্ডপের পুরো কাহিনীটি তিনি তুলে ধরছেন কাগজের মণ্ডে। পুরনো খবরের কাগজ, ডিমের ক্রেট, ফেলে দেওয়া কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে মণ্ড তৈরির কাজে। মডেলগুলোর রূপ দেওয়া হচ্ছে পাথর খোদাইয়ের।

এই মণ্ডপ–‌চত্বর জুড়ে কন্যাশ্রীর প্রতিচ্ছবি। আলোকিত হবে কন্যাশ্রী আলোয়। থিম মিউজিকে বাজবে কন্যাশ্রীর সেই পরিচিত সুর। বিধাননগর এ কে ব্লকের পুজোয় কন্যাশ্রী।‌

More Updated News From Chakdaha 24x7