আধ্যাত্মিকতার শহর চাকদহে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আগমন

By Staff Reporter – December 03, 2017

জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর জগন্নাথ মন্দিরে ” জগন্নাথ মেলা ” আয়োজিত হয় । বহুদূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন শ্র্র্র্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের দর্শন ও মেলা উপভোগ করতে ।

 

তবে আপনি জানেন কি কিভাবে শ্র্র্র্রী শ্রী জগন্নাথ দেব চাকদহে আসেন ? বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর জগদ্বীশ পন্ডিত ও হিরণ্য পন্ডিত নবদ্বীপ ধামে গিয়ে পর্ণকুটির নির্মান করে বসবাস করতেন ।

একাদশী তিথীতে নিমাই পন্ডিত ছোটবেলায় কান্না করছিলেন । যথারীতি তার বাবা-মা তাকে শ্বান্তনা দেওযার জন্য হরিনাম সংকীর্তন করছিলেন ।

 

—— Advertisement——

 

কিন্তু অনাদি আদি শ্রী গোবিন্দের শিশু লীলায় শিশুর কান্না থামে না বরং বাইনা ধরে বলে জগদ্বীশ পন্ডিত বিষ্ণুর নিমিত্তে ভোগ নিবেদন করছে আমি ঐ ভোগ গ্রহণ করতে চাই ।

জগন্নাথ মিশ্র অবাক হয়ে গেলেন এই ভেবে কিভাবে এই ছোট বালক জানতে পারল যে আজ একাদশী এবং জগদ্বীশ পন্ডিত বিষ্ণুকে ভোগ দিচ্ছেন ।

তৎক্ষনাৎ জগন্নাথ মিশ্র জগদ্বীশ পন্ডিতের সাক্ষাৎ করলেন এবং শিশুর বাইনার কথা জানালেন ।সব শুনে জগদ্বীশ পন্ডিত ধ্যানস্থ হয়ে জানতে পারলেন এই শিশু আর কেউ নয় অনাদির আদি শ্র্রী গোবিন্দ, তার অধিষ্ঠিত দেবতা ।

এই উপলব্ধি হওয়া মাত্র বিষ্ণু ভোগ জগন্নাথ মিশ্রকে দিলেন নিমাইকে দেওয়ার জন্য ।

এইভাবে তার ভোগ নিবেদন স্বার্থকতা পায় ।পরবর্তী সময়ে নিমাই মহাপ্রভূ চৈতন্যদেব নামে পরিচিতি লাভ করেন । একদিন মহাপ্রভূ জগদ্বীশ পন্ডিতকে পুরী যাওযার নির্দেশ দিলেন ।

যখন জগদ্বীশ পন্ডিত পুরীতে আসলেন তখন তিনি জগন্নাথ দেবের দর্শন পেলেন। জগন্নাথ দেবের দর্শন পেয়ে জগদ্বীশ পন্ডিত আকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করলেন ।

জগন্নাথ দেব বললেন , ” তুমি কাঁদছো কেন ? আমাকে তোমার সাথে নাও ।”

—— Advertisement——

                                      
তারপর জগন্নাথ দেব স্বপ্নে রাজাকে নির্দেশ দিল সে যেন জগন্নাথ দেবের মূর্তিকে জগদ্বীশ পন্ডিতকে দিয়ে দেন । তবে জগন্নাথ দেবের মূর্তি এত ভারী ছিল তা বহন করা জগদ্বীশ পন্ডিতের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
তাই স্বয়ং অনাদি আদি জগন্নাথ দেব মূর্তিটিকে হালকা করে দেন যাতে সে মূর্তিটি সহজে বহন করে নিয়ে যেতে পারে ।
কিন্তু যখন তিনি চাকদহ ধামে উপনীত হন তখন প্রাত:ক্রিয়ার্থে এক ব্রাম্মন এর হাতে মূর্তিটি অর্পণ করেন ।কে বুঝবে বিধাতার বিধান ?
ব্রাম্মন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের ভাড় বহন করতে অসমর্থ হন কারন জগন্নাথ দেব ক্রমান্বয়ে ভারী হতে থাকে যা ব্রাম্মনের পক্ষে দীর্ঘ সময় বহন করা সম্ভব নয় ।
জগদ্বীশ পন্ডিতের বিলম্বের কারনে মূর্তিটি ভূমিতে রেখে প্রস্থান করেন ।ফিরে এসে জগদ্বীশ পন্ডিত মূর্তিটিকে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন তবে ব্যর্থ হন ।
বাধ্য হয়ে মূর্তিটি চাকদহে প্রতিষ্ঠিত করে পূজো শুরু করেন এবং তিনি চাকদহে থেকে যান । এই সংবাদ রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের কাছে পৌছায় ।
তখন রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র হাতি ,রথ ,ঘোড়া, পাইক, বরকন্দাজ সহকারে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মূর্তিটিকে নিতে আসেন কিন্তু সহস্র হাতির বলপ্রয়োগ করেও মূর্তিটিকে সামান্য নড়াতে পারে না ।
এযে স্বয়ং নারায়ণ বিশ্বম্ভর মূর্তি ধারণ করেছে । রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র ৫০০ একর জমি খাজনা মুক্ত করে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের সেবার্থে দান করলেন ।
তারপর এখানে মন্দির স্থাপিত হয় , পরবর্তীকালে জগদ্বীশ পন্ডিতের পরিবার জগন্নাথ দেবের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করবার জন্য স্রিলা ভক্তি দয়িতা মাধব মহারাজকে অনুরোধ করেছিলেন ।
তিনি এই বিষয় নিয়ে স্রিলা বি.আর. শ্রীধর মহারাজের সাথে পরামর্শ করেন । তিনি তাকে জগন্নাথ দেবের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করবার জন্য উপদেশ দেন ।
স্রিলা ভক্তি দয়িতা মাধব মহারাজ জগন্নাথ দেবের এমন ইচ্ছা ভেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে মন্দিরটি মঠে রূপান্তর করেন ।

—— Advertisement——

                             

More Updated News From Chakdaha 24x7