আধ্যাত্মিকতার শহর চাকদহে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আগমন

By Staff Reporter – August 01, 2017

জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর জগন্নাথ মন্দিরে ” জগন্নাথ মেলা ” আয়োজিত হয় । বহুদূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন শ্র্র্র্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের দর্শন ও মেলা উপভোগ করতে ।

 

তবে আপনি জানেন কি কিভাবে শ্র্র্র্রী শ্রী জগন্নাথ দেব চাকদহে আসেন ? আজ সে বিষয়ে আলোকপাত করব ।বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর জগদ্বীশ পন্ডিত ও হিরণ্য পন্ডিত নবদ্বীপ ধামে গিয়ে পর্ণকুটির নির্মান করে বসবাস করতেন ।

একাদশী তিথীতে নিমাই পন্ডিত ছোটবেলায় কান্না করছিলেন । যথারীতি তার বাবা-মা তাকে শ্বান্তনা দেওযার জন্য হরিনাম সংকীর্তন করছিলেন ।

কিন্তু অনাদি আদি শ্রী গোবিন্দের শিশু লীলায় শিশুর কান্না থামে না বরং বাইনা ধরে বলে জগদ্বীশ পন্ডিত বিষ্ণুর নিমিত্তে ভোগ নিবেদন করছে আমি ঐ ভোগ গ্রহণ করতে চাই ।

জগন্নাথ মিশ্র অবাক হয়ে গেলেন এই ভেবে কিভাবে এই ছোট বালক জানতে পারল যে আজ একাদশী এবং জগদ্বীশ পন্ডিত বিষ্ণুকে ভোগ দিচ্ছেন । তৎক্ষনাৎ জগন্নাথ মিশ্র জগদ্বীশ পন্ডিতের সাক্ষাৎ করলেন এবং শিশুর বাইনার কথা জানালেন ।

সব শুনে জগদ্বীশ পন্ডিত ধ্যানস্থ হয়ে জানতে পারলেন এই শিশু আর কেউ নয় অনাদির আদি শ্র্রী গোবিন্দ, তার অধিষ্ঠিত দেবতা । এই উপলব্ধি হওয়া মাত্র বিষ্ণু ভোগ জগন্নাথ মিশ্রকে দিলেন নিমাইকে দেওয়ার জন্য ।

এইভাবে তার ভোগ নিবেদন স্বার্থকতা পায় ।পরবর্তী সময়ে নিমাই মহাপ্রভূ চৈতন্যদেব নামে পরিচিতি লাভ করেন । একদিন মহাপ্রভূ জগদ্বীশ পন্ডিতকে পুরী যাওযার নির্দেশ দিলেন ।

যখন জগদ্বীশ পন্ডিত পুরীতে আসলেন তখন তিনি জগন্নাথ দেবের দর্শন পেলেন। জগন্নাথ দেবের দর্শন পেয়ে জগদ্বীশ পন্ডিত আকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করলেন । জগন্নাথ দেব বললেন , ” তুমি কাঁদছো কেন ? আমাকে তোমার সাথে নাও ।”

                                      
তারপর জগন্নাথ দেব স্বপ্নে রাজাকে নির্দেশ দিল সে যেন জগন্নাথ দেবের মূর্তিকে জগদ্বীশ পন্ডিতকে দিয়ে দেন । তবে জগন্নাথ দেবের মূর্তি এত ভারী ছিল তা বহন করা জগদ্বীশ পন্ডিতের পক্ষে অসম্ভব ছিল ।
তাই স্বয়ং অনাদি আদি জগন্নাথ দেব মূর্তিটিকে হালকা করে দেন যাতে সে মূর্তিটি সহজে বহন করে নিয়ে যেতে পারে । কিন্তু যখন তিনি চাকদহ ধামে উপনীত হন তখন প্রাত:ক্রিয়ার্থে এক ব্রাম্মন এর হাতে মূর্তিটি অর্পণ করেন ।
কে বুঝবে বিধাতার বিধান ? ব্রাম্মন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের ভাড় বহন করতে অসমর্থ হন কারন জগন্নাথ দেব ক্রমান্বয়ে ভারী হতে থাকে যা ব্রাম্মনের পক্ষে দীর্ঘ সময় বহন করা সম্ভব নয় । জগদ্বীশ পন্ডিতের বিলম্বের কারনে মূর্তিটি ভূমিতে রেখে প্রস্থান করেন ।
ফিরে এসে জগদ্বীশ পন্ডিত মূর্তিটিকে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন তবে ব্যর্থ হন ।বাধ্য হয়ে মূর্তিটি চাকদহে প্রতিষ্ঠিত করে পূজো শুরু করেন এবং তিনি চাকদহে থেকে যান । এই সংবাদ রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের কাছে পৌছায় ।
তখন রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র হাতি ,রথ ,ঘোড়া, পাইক, বরকন্দাজ সহকারে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মূর্তিটিকে নিতে আসেন কিন্তু সহস্র হাতির বলপ্রয়োগ করেও মূর্তিটিকে সামান্য নড়াতে পারে না ।
এযে স্বয়ং নারায়ণ বিশ্বম্ভর মূর্তি ধারণ করেছে । রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র ৫০০ একর জমি খাজনা মুক্ত করে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের সেবার্থে দান করলেন ।তারপর এখানে মন্দির স্থাপিত হয় , পরবর্তীকালে জগদ্বীশ পন্ডিতের পরিবার জগন্নাথ দেবের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করবার জন্য স্রিলা ভক্তি দয়িতা মাধব মহারাজকে অনুরোধ করেছিলেন ।
তিনি এই বিষয় নিয়ে স্রিলা বি.আর. শ্রীধর মহারাজের সাথে পরামর্শ করেন । তিনি তাকে জগন্নাথ দেবের সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করবার জন্য উপদেশ দেন । স্রিলা ভক্তি দয়িতা মাধব মহারাজ জগন্নাথ দেবের এমন ইচ্ছা ভেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে মন্দিরটি মঠে রূপান্তর করেন ।
                             

More Related News From Chakdaha 24x7