নদীয়ার বালিকা বিদ্যালয় গুলির মধ্যে সাফল্যের নীরিখে এগিয়ে বসন্ত কুমারী

By Pranayita Mondal – December 06, 2017

আধ্যাত্মিক শহর চাকদহে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে মানুষের মনে সর্বাগ্রে যে নামটি জেগে ওঠে তা হল “চাকদহ বসন্ত কুমারী বালিকা বিদ্যাপীঠ”।

 

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে নদীয়ার বালিকা বিদ্যালয় গুলির মধ্যে সাফল্যের নীরিখে এগিয়ে এই বিদ্যালয় ।

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ২রা জানুয়ারি স্টেশন সংলগ্ন রথতলা অঞ্চলে এটি স্থাপিত হয়।বস্তুত এটি চাকদহ রামলাল একাডেমীর বালিকা বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রথমবার ১৯৫৪ সালে ২২ জন ছাত্রী এই বিদ্যালয় থেকে School Final Examination এ বসে। বিদ্যালয়ের উন্নতির পিছনে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান অনস্বীকার্য।

 —— Advertisement——

 

১৯৪৮ র সামান্য কক্ষবিশিষ্ট একতলা নির্মানটি ২০১৭ সালে কমপক্ষে ৩৫ টি কক্ষবিশিষ্ট চারতলা স্থাপণের পূর্ণতার দিকে অগ্রসরমান। ১৯৫২ সালে স্কুলটি মাধ্যমিক স্তরের প্রস্তাব পাঠালে তা ০১-০১-১৯৫৩ সালে গৃহীত হয়। ১৯৫৯ সালে একাদশ শ্রেণীর প্রস্তাব গৃহীত হলে কলাবিভাগ ও বিজ্ঞানবিভাগের জন্ন্য পৃথক ভবন তৈরী হয়।

বিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত সকলের শিল্পিসত্তাকে তুলে ধরার উদ্দেশে ১৯৬৫ সালে প্রথম বিদ্যালয়ের পত্রিকা ‘শুভা’ প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে ছাত্রীদের সহযোগীতায় ৪দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান, ৭ দিন ব্যাপী প্রদর্শনী হয় এবং স্মারকলিপি প্রকাশিত হয়।

১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী চলাকালীন “Prize & Students’ beneficial fund” প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫-২০০৬ সালে বিদ্যালয়ের Eco Club তাদের কাজের জন্য রাজ্যস্তরে প্রথম স্থান লাভ করে।

২০০১ সালে বিদ্যালয়টি অভাবনীয় মর্যাদা পায় এবং আদর্শ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। প্রত্যেক বছর সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ‘সপ্তস্বরা’ নামক দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাগার, গ্রন্থাগার, কম্পিউটারের ব্যাবস্থা আছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ২০০৮ সালে বিদ্যালয়ের সার্বিক পাশের হার ছিল ১০০% এবং ২০১৭ তে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর যথাক্রমে ৬৭৮ এবং ৪৫৯।

স্কুলে শিক্ষাবিষয়ক ভ্রমনের সুবিধা আছে। শিক্ষার্থীরা যত্ন ও দায়িত্বমিশ্রিত ভ্রমনের সুযোগ পায়। বিদ্যালয়ে NSS এর সুবন্দবস্ত আছে। এর দরুণ নির্দিষ্ট সময়ে ৭দিন ব্যাপী ক্যাম্প হয়।

সম্প্রতি যে বিষয়গুলি বিদ্যালয়ে স্থান পেয়েছে সেগুলি হল রক্তদান শিবির, চক্ষুপরীক্ষা শিবির,ক্যারাটে, স্বাস্থ্যসচেতনমূলক শিবির, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সফর। এগুলি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়। বিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারগুলি যথেষ্ট সুসজ্জিত।এমনকি বিদ্যালয়ের সুরক্ষার জন্য ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

আরও পড়ুন – ১৮৬৯ সালের মিডল ইংলিশ স্কুলই আজ চাকদহ রামলাল একাডেমী

 —— Advertisement——

আরও পড়ুন – একনজরে জেনে নিন চাকদহ কলেজ সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

More Updated News From Chakdaha 24x7