নদীয়ার বালিকা বিদ্যালয় গুলির মধ্যে সাফল্যের নীরিখে এগিয়ে বসন্ত কুমারী

By Pranayita Mondal – 27th June, 2017

প্রাচীন শহর চাকদহে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে মানুষের মনে সর্বাগ্রে যে নামটি জেগে ওঠে তা হল “চাকদহ বসন্ত কুমারী বালিকা বিদ্যাপীঠ”।

 

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ২রা জানুয়ারি স্টেশন সংলগ্ন রথতলা অঞ্চলে এটি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন জনৈক সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব বৈদ্যনাথ বোস এবং তাঁর নামেবিদ্যালয়ের নামকরন হয়। বস্তুত এটি চাকদহ রামলাল অ্যাকাডেমির বালিকা বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রথমবার ১৯৫৪ সালে ২২ জন ছাত্রী এই বিদ্যালয় থেকে School Final Examination এ বসে। বিদ্যালয়ের উন্নতির পেছনে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৪৮ র সামান্য কক্ষবিশিষ্ট একতলা নির্মানটি ২০১৭ সালে কমপক্ষে ৩৫ টি কক্ষবিশিষ্ট চারতলা স্থাপণের পূর্ণতার দিকে অগ্রসরমান।

বলাবাহুল্য এযাবৎকাল যতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী এ আয়তনের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাঁরা সকলেই এই আয়তনের মায়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। এনাদের মতো মানুষই বিদ্যালয়ের উন্নতির জন্ন্য দায়ী।

১৯৫২ সালে স্কুলটি মাধ্যমিক স্তরের প্রস্তাব পাঠালে তা ০১-০১-১৯৫৩ সালে গৃহীত হয়। ১৯৫৯ সালে একাদশ শ্রেণীর প্রস্তাব গৃহীত হলে কলাবিভাগ ও বিজ্ঞানবিভাগের জন্ন্য পৃথক ভবন তৈরী হয়।
বিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত সকলের শিল্পিসত্তাকে তুলে ধরার উদ্দেশে ১৯৬৫ সালে প্রথম বিদ্যালয়ের পত্রিকা ‘শুভা’ প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে ছাত্রীদের সহযোগীতায় ৪দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান, ৭ দিন ব্যাপী প্রদর্শনী হয় এবং স্মারকলিপি প্রকাশিত হয়।
১৯৮৩ সালে স্কুলটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনুমতি পায়।
বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের দৃষ্টিকোণকে আরএও আকর্ষণ করে। সর্বক্ষেত্রে সুবন্দবস্তের দরুণ এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতটি ক্রমবর্ধমান সময়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেড়ে চলেছে।
১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী চলাকালীন “Prize & Students’ beneficial fund” প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি পুরস্কার বিতরণে সাহায্য করে এবং এই ফান্ডের অংশ থেকে প্রতি বছর দুস্থ ছাত্রীদের সাহায্য করা হয়। ২০০৫-২০০৬ সালে বিদ্যালয়ের Eco Club তাদের কাজের জন্য রাজ্যস্তরে প্রথম স্থান লাভ করে। ২০০১ সালে বিদ্যালয়টি অভাবনীয় মর্যাদা পায় এবং আদর্শ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্রনাথের মূর্তিটি
প্রত্যেক বছর সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ‘সপ্তস্বরা’ নামক দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাগার, গ্রন্থাগার, কম্পিউটারের ব্যাবস্থা আছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ২০০৮ সালে বিদ্যালয়ের সার্বিক পাসের হার ছিল ১০০% এবং ২০১৭ তে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর যথাক্রমে ৬৭৮ এবং ৪৫৯। স্কুলে শিক্ষাবিষয়ক ভ্রমনের সুবিধা আছে। শিক্ষার্থীরা যত্ন ও দায়িত্বমিশ্রিত ভ্রমনের সুযোগ পায়। বিদ্যালয়ে NSS এর সুবন্দবস্ত আছে। এর দরুণ নির্দিষ্ট সময়ে ৭দিন ব্যাপী ক্যাম্প হয়।

সম্প্রতি যে বিষয়গুলি বিদ্যালয়ে স্থান পেয়েছে সেগুলি হল রক্তদান শিবির, চক্ষুপরীক্ষা শিবির,ক্যারাটে, স্বাস্থ্যসচেতনমূলক শিবির, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সফর। এগুলি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হয়। বিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারগুলি যথেষ্ট সুসজ্জিত।

বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি কখনি কারো কাছে অপ্রসংশনীয় হয়নি। বিদ্যালয়ের সুরক্ষার জন্য ৪৮টি CCTV camera বসানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি চাকদহের গর্ব এবং এর ক্রমবর্ধমান উন্নতি চাকদহবাসীর কাছে সুখবরের বিষয় চাকদহের।

More Related News From Chakdaha 24x7